আবার বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং

গেজেট প্রতিবেদন

আবার বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং, শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। ওইদিন ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ১৪ হাজার ১৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে, আর লোডশেডিং করা হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট।

বিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা (আমদানিসহ) ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। সেখানে গড়ে অর্ধেকও উৎপাদন করতে না পারায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী গ্যাসভিত্তিক প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থেকেছে। অন্য কোন খাত থেকে ওই ঘাটতি পুরণ করার মতো অবস্থা নেই। একমাত্র হাতে রয়েছে তেলভিত্তিক পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো। যেগুলো আর্থিকভাবে খুবই ব্যয়বহুল আবার কারিগরিভাবেও ২৪ ঘণ্টা চালানোর সুযোগ সীমিত।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গ্যাসভিত্তিক ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াটের মধ্যে ৫ হাজার ১২৫ মেগাওয়াট, কয়লা ভিত্তিক (আদানিসহ) ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াটের মধ্যে ৪ হাজার ৯৯২ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে। গ্যাস এবং কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে ছিল ১০ হাজার ৭৭৮ মেগাওয়াট। বেকার বসে থাকা গ্যাস ও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাদ দিলে প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা নেমে আসে ১৮ হাজার ৮১৮ মেগাওয়াটে। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো না গেলে লোডশেডিং ঠেকানোর কোন সুযোগ নেই। হড়পা বানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপাল থেকে বিদ্যুতের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক গ্যাস প্রয়োজন ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট, সেখানে ১১ সেপ্টেম্বর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮৬৮ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিতে ঘাটতির কারণে সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কম দেওয়া হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে গ্যাস বাড়িয়ে ৯৫০ মিলিয়ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এতে করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও কিছুটা বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।

গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যখন উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে, সেইদিন ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াটের মধ্যে গড়ে উৎপাদন দিয়েছে ১ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াট, ডিজেল ৭৬৮ মেগাওয়াটের মধ্যে ১৬৬ মেগাওয়াট, সৌর ৭৯৭ মেগাওয়াটের মধ্যে ১৯৭ মেগাওয়াট, ৬২ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গড়ে পাওয়া গেছে ১৬ মেগাওয়াটের মতো।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা আশা করছি ২০ সেপ্টেম্বর নাগাদ লোডশেডিং কমে আসবে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। সেটি হলে অনেকটা স্বস্তি আসবে।সরকারি তথ্য

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বর্তমানে ৮০০ থেকে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি। আরও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে তেলের সরবরাহও বাড়ানোর প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট (৪২.১৫ শতাংশ) গ্যাসভিত্তিক এবং ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট (২৮.৪৬ শতাংশ) কয়লাভিত্তিক (আদানিসহ), ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট (১৯.০৬ শতাংশ), ডিজেলভিত্তিক ৭৮৬ মেগাওয়াট (২.৬৭ শতাংশ), সৌর বিদ্যুৎ ৭৯৭ মেগাওয়াট (২.৭৭ শতাংশ), জলবিদ্যুৎ ২৩০ মেগাওয়াট (.৮০ শতাংশ), বায়ু বিদ্যুৎ ৬২ মেগাওয়াট (.২২ শতাংশ)। এর বাইরে রয়েছে ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি।

সান্ধ্যাকালীন চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। লোডশেডিং সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭ টায় বিলবোর্ড এবং রাত ৮টার মধ্যে দোকান ও শপিং মার্কেট বন্ধের আদেশ জারি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ওই আদেশের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল পাওয়া যায়নি। দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ অফিসের সামনেই বিল বোর্ডে আলো জ্বলছে রাতভর।

অতীতে এমন পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হতো। এবারে তেল সংকটের কারণে পুরোমাত্রায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াকে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা গেজেট/এএজে

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন